ইসলামে নারী ও পুরুষদের বৈশিষ্ট্য ৷ লেখক: ড. সাঈদ ইসমাঈল চীনী ৷
কৃতজ্ঞতায়ঃ কামাল আহমেদ বাগী
ইসলাম তার শিক্ষা ও আদর্শের মাধ্যমে মানবপ্রকৃতিকে- যা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন- সমর্থন ও শক্তিশালী করে। আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে দ্ব্যর্থহীন কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে নারী-পুরুষ দুই শ্রেণিতে সৃষ্টি করেছেন। এরা যাতে একে অপরের সম্পূরক হয়। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ ঠিক রাত-দিনের মতো। যে দুয়ের সমন্বয়ে হয় একটি দিন কিংবা বলা যায় ইতি ও নেতিবাচক স্রোত তথা জোয়ার-ভাটার মতো, যে দুইয়ের যৌগে গঠিত হয় বিদ্যুৎ-শক্তি। এ বিদ্যুৎ-শক্তি সঞ্চার করে বহু জড় পদার্থে প্রাণ ও প্রাণস্পন্দন।
আল্লাহ তা‘আলা নারীকে যেসব অনন্য বৈশিষ্ট্যে শোভিত করেছেন তার অন্যতম হলো আচার-আচরণে আহ্লাদের প্রাচুর্য ও আবেগের বাহুল্য। তেমনি গঠন-প্রকৃতিতেও নারী কোমলতা ও এমন নম্রতায় সমুজ্জ্বল, পুরুষের সঙ্গে বসবাসরত পরিবেশে যা তার স্বাধীনতাকে করে সীমাবদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা নারীকে স্বভাব-চরিত্রেও বানিয়েছেন কোমল। যাতে সে শুষে নিতে পারে পুরুষের যাবতীয় রুক্ষতা। কেড়ে নিতে পারে তার হৃদয়-অন্তর। নারীর সান্নিধ্য পুরুষকে দেবে মানসিক আশ্রয়। যেখানে এলে তার টেনশন-অস্থিরতা লঘু হবে। কেটে যাবে সব ক্লান্তি ও বিস্বাদ। একইভাবে সে যাতে হয় মমতাময়ী এবং শিশুর লালন-পালনে উপযুক্ত। আবেগ ও অনুভূতিপ্রবণ এক কোমল সৃষ্টি নারী। অপরের সুখের জন্য নারীই পারে সবচে বেশি ত্যাগের মহত্ব প্রকাশ করতে। এসব মানবিক গুণ ও সহজাত উপাদান ছাড়া কোনো পরিবার ও সমাজ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রমাণ করেছে, নারীই সবচে বেশি কঠিন মানসিক চাপ বহন করতে সক্ষম। মানসিক আঘাত সারাতে নারীই রাখতে পারে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা।
অন্যদিকে আল্লাহ তা‘আলা পুরুষকে সৃষ্টি করেছেন রূঢ়তা ও কঠোরতা দিয়ে। যা তাকে স্থান ও কালের বিবেচনায় বৃহত্তর অঙ্গনে বিচরণের সুযোগ এনে দেয়। মানুষ যেসব ঝুঁকির সম্মুখীন হয় তা থেকে আত্মরক্ষায় শারীরিকভাবে পুরুষ অধিক সক্ষম। তাই শত্রু কর্তৃক তুলনামূলক সে কমই আক্রান্ত হয়। তেমনি তার মানসিক গঠনেও দৃঢ়তা বেশি। এ কারণে সে অনেক দুর্ঘটনার সামনেও অবিচল থাকতে পারে। যেমন অকস্মাৎ কোনো সরীসৃপ বা ভীমদর্শন প্রাণীর আবির্ভাব ইত্যাদি।
এ জন্যই সে নারীর তুলনায় বেশি নিরাপত্তা ও সাহসিকতার সঙ্গে ভীতিকর, ঝুঁকিপূর্ণ ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে এগিয়ে যায়। এ কারণেই সে নিরব নিষুতি রাতেও আতঙ্ক জাগানিয়া নানা প্রান্ত বীরদর্পে অতিক্রম করতে পারে। নিরাপদে ফিরে আসতে পারে স্বজনের কাছে। যা পারে না একজন নারী।
উল্লেখ্য, সাধারণত আমরা যখন পুরুষ বা নারীর বৈশিষ্ট্য আলোচনা করি, তা কিন্তু ব্যতিক্রম অবস্থার অস্তিত্ব অস্বীকার করে না। কারণ, অনেক সময় নারীর বৈশিষ্ট্যের জায়গায় দেখা যায় পুরুষকে। যেমন, পুরুষের স্বকীয় স্থানে দেখা যায় নারীকেও।
ইসলামে নারী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলামে নারী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান